ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন তাঁর ইউনিয়ন বাজেট ২০২৬–২৭ উপস্থাপন করেছেন। এই বাজেটে বস্ত্র ও পোশাক খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, কারণ এই খাতটি ভারতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এবং রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নিচে বস্ত্র খাত–সংক্রান্ত প্রধান ঘোষণাগুলো সহজ ভাষায় তুলে ধরা হলো:
১। সমন্বিত বস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচি
বস্ত্র খাতের জন্য একটি সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, যার মধ্যে পাঁচটি অংশ রয়েছে:
- ন্যাশনাল ফাইবার স্কিম
সিল্ক, উল ও পাটের মতো প্রাকৃতিক ফাইবারের পাশাপাশি ম্যান-মেড ফাইবার এবং নতুন প্রজন্মের ফাইবার উৎপাদনে স্বনির্ভরতা বাড়ানো হবে।
- টেক্সটাইল এক্সপ্যানশন ও এমপ্লয়মেন্ট স্কিম
ঐতিহ্যবাহী বস্ত্র ক্লাস্টারগুলো আধুনিক করা হবে। নতুন যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং পরীক্ষণ ও সার্টিফিকেশন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।
- ন্যাশনাল হ্যান্ডলুম ও হ্যান্ডিক্রাফট প্রোগ্রাম
তাঁতী ও কারুশিল্পীদের জন্য বিদ্যমান প্রকল্পগুলো একত্র করে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা দেওয়া হবে।
- টেক্স-ইকো ইনিশিয়েটিভ
পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বস্ত্র ও পোশাক উৎপাদনে গুরুত্ব দেওয়া হবে, যাতে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ে।
- সামর্থ ২.০
শিল্প প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে বস্ত্র খাতের দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থাকে আধুনিক করা হবে।
২। মেগা টেক্সটাইল পার্ক স্থাপন
চ্যালেঞ্জ মোডে নতুন মেগা টেক্সটাইল পার্ক স্থাপন করা হবে।
এগুলোতে টেকনিক্যাল টেক্সটাইল এবং পণ্যের মূল্য সংযোজন–এর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে।
৩। মহাত্মা গান্ধী গ্রাম স্বরাজ উদ্যোগ
খাদি, হ্যান্ডলুম ও হ্যান্ডিক্রাফট খাতকে শক্তিশালী করতে এই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে:
- প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন জোরদার হবে
- উৎপাদনের গুণগত মান উন্নত হবে
- ব্র্যান্ডিং ও বৈশ্বিক বাজার সংযোগ সহজ হবে
· ODOP (One District One Product) এক জেলা এক পণ্য উদ্যোগ ও গ্রামীণ যুবসমাজ উপকৃত হবে
৪। শুল্কমুক্ত আমদানি সুবিধা
লেদার ও সিনথেটিক ফুটওয়্যারের মতো এবার শু আপারস রপ্তানির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট কিছু কাঁচামাল শুল্কমুক্ত আমদানি করা যাবে।
৫। রপ্তানির সময়সীমা বৃদ্ধি
বস্ত্র পোশাক, লেদার পোশাক ও ফুটওয়্যার রপ্তানিকারকদের জন্য:
- রপ্তানির সময়সীমা ৬ মাস থেকে বাড়িয়ে ১২ মাস করা হয়েছে
এতে রপ্তানিকারকরা আরও কার্যকরী সুবিধা ও নমনীয়তা পাবেন।
সংক্ষেপে
ইউনিয়ন বাজেট ২০২৬–২৭ স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে ভারত সরকার তাদের বস্ত্র খাতকে:
- কর্মসংস্থানের প্রধান উৎস
- টেকসই রপ্তানি শিল্প
- বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার শক্ত ভিত্তি
হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।
(Apparel Times BD News Desk)


